Speak the truth
Skip to toolbar

Extra-curricular Activities

Extracurricular Activities  

 

নাফিসা এবং নাকিব ছোটবেলার বন্ধু। একসাথে বড় হয়ে উঠলেও দুজনের স্বভাব যেন দুই মেরুর। তাদের দুজনেই এখন কলেজে পড়শোনা করছে। নাফিসা শুধুমাত্র কোচিং, কলেজ এবং পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। অন্যদিকে নাকিব এইসবের পাশাপাশি আরো এক্সট্রাকারিকুলার কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকে।

 

একদিন নাফিসা নাকিবকে থেকে এক্সট্রাকারিকুলার কি সেটা জানতে চায়। উত্তরে নাকিব বলে পড়াশোনার অতিরিক্ত যে কাজ গুলো করা হয় তাই হলো এক্সট্রাকারিকুলার। আরেকটু বুঝিয়ে বললে এক্সট্রা মানে অতিরিক্ত এবং কারিকুলার মানে পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত।  সুতরাং পাঠ্যক্রম ছাড়া বাড়তি যে কাজ করা হয় তা-ই এক্সট্রাকারিকুলার। 

 

এই উত্তর পাওয়ার পর নাফিসার মনে এই সমন্ধে জানার জন্য আরো কৌতুহল জাগলো। সে আবার নাকিবকে বললো আচ্ছা, এইসব করে তোর লাভ টা কি? আমায় একটু বলবি?

 

প্রত্যুত্তরে নাকিব বলে আমার যেটা মনে হয় এইসব কাজের মাধ্যমে আমার সময়টা ভালোভাবে কাজে লাগে, আমি অনেক পরিশ্রম করতে পারি আগের তুলনায়, এটা আমার পড়াশোনায় মনোযোগী হতে সাহায্য করে, আমার চিন্তার জায়গাওটাকে আরো উন্নত করে, আত্নসম্মান, আত্নবিশ্বাস, যোগাযোগ করা, নেটওয়ার্ক তৈরি, দায়িত্ব নেয়া এবং  প্রতিশ্রুতি বজায় রাখা, সক্রিয় থাকা, ঝুঁকি নেয়া এবং পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ানো প্রভৃত গুণাবলি উন্নত করে থাকে।    

 

এক্সট্রাকারিকুলারের এইসব সুবিধার কথা শুনে নাফিসার কৌতুহল ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। সে নাকিবকে জিজ্ঞেস করে তোর কি মনে হয়না আমারো এক্সট্রাকারিকুলারে অংশ নেয়া উচিত? জবাবে নাকিব জানায় অবশ্যই সবার এক্সট্রাকারিকুলার কার্যক্রমে অংশ নেয়া উচিত। 

 

নাফিসা আবার জিজ্ঞেস করে কিন্তু কিভাবে? নাকিব জানায় আমার অভিজ্ঞতা থেকে আমি তোকে বেশ কিছু সাজেশন দিতে পারি। 

 

১. ক্লাবিংঃ প্রায় সব কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্লাব থাকে। এগুলাতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নানান ধরনের মানুষের সাথে পরিচিত হওয়া যায় এবং তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের স্কিল ও শেখা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন প্রোগ্রাম চিন্তা করা, আয়োজন এবং বাস্তবায়ন করার একটা সুযোগ ও থাকে। আর এগুলো সিভি বা রেজুমেতে অনেক কাজে দেয়।

 

ALSO READ  অভিনয় - Rifat Raiyan : Editor's Pick

২. টিউশনঃ স্টুডেন্ট অবস্থায় আয়ের অন্যতম একটি মাধ্যম এটি। এর মাধ্যমে নিজের জ্ঞান টাকে অন্যদের মাঝে বিতরণ করা সম্ভব। বলা হয়ে থাকে- “যা শেখা হয় তা অন্যদের শেখানোর  মাধ্যমে জ্ঞানের পরিপূর্ণতা লাভ হয়”। এছাড়াও People, Cash Management, Fluent Speaking, Adaptability ইত্যাদির ক্ষেত্রে টিউশন অনেক সাহায্য করে।

 

৩.ভোলান্টারিং বা সোশ্যাল সার্ভিসঃ যেহেতু, মানুষ সামাজিক জীব সমাজের প্রতি মানুষের কিছু দায়িত্ব থাকে। এইসব দায়িত্ব পালনের অন্যতম একটি উপায় হচ্ছে ভোলান্টারিং বা সোশ্যাল সার্ভিস। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতে পেইড ভোলান্টিয়ার নেয়া হয় যা অর্থ উপার্জনের একটা অনবদ্য সুযোগ। 

 

৪. ইন্টার্নশিপঃ

শিক্ষার্থী থাকা কালীন কাজ শেখার একটি অন্যতম সুযোগ হলো ইনটার্নশিপ। এর মাধ্যমে নিজের দক্ষতাকে বেশ ভালোভাবে ঝালাই করে নেয়া যায়। চাকরির ক্ষেত্রেও ইন্টার্ন ভেল্যু এড করে থাকে।

 

৫. খেলাধুলাঃ পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা একটি মানসিক প্রশান্তি দান করে থাকে। এর মাধ্যমে আত্নবিশ্বাস তৈরি করা যায়। খেলাধুলা একধরনের ব্যায়াম যা শারীরিকভাবে ফিট থাকতেও সাহায্য করে।

 

৬. প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ – বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের মেধাকে আরও একধাপ উন্নত করা যায়। এছাড়াও বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচিতি লাভের একটা সুযোগ থাকে। যারা ভালো করে বা ১ম,২য়, ৩য় অবস্থানে থাকে তাদের থেকেও অনেক কিছু শেখার থাকে। এমনি কিছু প্রতিযোগিতা হলো Business Competition, Olympiad, Writing Competition, Quiz Competition. 

 

৭. অনলাইন কোর্সঃ  টেকনোলজির সহজলভ্যতার কারণে অনলাইন কোর্স দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ডিভাইস এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে শেখা সম্ভব বিবিধ বিষয় এবং উন্নত করার সম্ভব নিজের জ্ঞান ও স্কিলের পরিধিকে।  

 

৮.ফটোগ্রাফিঃ   বর্তমান সময়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শখের এই বিষয়টি অনেক সময় আয় উপার্জনের ক্ষেত্রেও সাহায্য করে। অনেকে কেবলমাত্র Passion হিসেবে শুরু করে এটাকে Profession ও বানিয়ে ফেলেছে।      

 

ALSO READ  বুক রিভিউ : কমিউনিকেশন হ্যাকস

৯. লিখালিখি করাঃ সাহিত্যের ভাষায় বলা হয়-

অসীর মসী। এখানে অসী মানে তলোয়ার আর মসী মানে কলম। লেখালেখি তরবারির চাইতেও ধারালো। একজন ভালো লেখক অচিরেই তার লেখার মাধ্যমে পাঠকের মনে উৎসাহ এবং অনুপ্রেরণা যোগাতে পারে। এইভাবে ছোট ছোট নোট লিখতে লিখতে লেখক একদিন বই লেখার কাজে হাত দেন। 

 

          

১০. পার্ট টাইম বিজনেস বা জব-     শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় পার্ট টাইম জব করা আয় উপার্জন এবং দক্ষতা উন্নয়ন এই দুয়ের সুযোগ করে দেয়। আমরা সব সময় পার্ট টাইম জব কথাটা শুনে থাকি। কিন্তু, প্রকৃতপক্ষে পার্ট টাইম বিজনেস করাও সম্ভব। ফেসবুক পেইজে বা গ্রুপ খোলার  মাধ্যমে সহজেই নিজের একটি বিজনেস চালু করা যেতে পারে।

 

এইসব সাজেশন পেয়ে নাফিসা নাকিবের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলো। পাশাপাশি এক্সট্রাকারিকুলার কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার সংকল্প করলো। 

 

নাফিসা তার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। আপনি বা দেরী করবেন বা পিছিয়ে থাকবেন কেন? চলুন আজকে থেকে শুরু করা যাক  আপনার এক্সট্রাকারিকুলার কার্যক্রমের যাত্রা। আপনার এই যাত্রা শুভ হোক এই কামনা রইলো। 

 

Image: https://www.stoodnt.com/blog/extracurricular-activities-college-admissions/

More From Author

    None Found

What’s your Reaction?
+1
13
+1
+1
18
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x