Believe in yourself
Skip to toolbar

𝗝𝘂𝗯𝗮𝘆𝗲𝗿 𝗧𝗵𝗲 𝗡𝗲𝗴𝗼𝘁𝗶𝗮𝘁𝗼𝗿

 

এইবারের কুরবানি ঈদের আর প্রায় ৪৭ দিন বাকি আছে। কুরবানির গরুর প্রতি ছোটবেলা থেকে জুবায়েরের একটা আবেগ এবং ভালোলাগা কাজ করে।

প্রতিবছর নিজে বাবা এবং তার প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে হাটে যায়। দেখেশুনে ব্যাপারিদের সাথে দর কষাকষি করে গরুটা নেয় সে। তার বাবা কায়সার সাহেব জাস্ট গরু পছন্দ করা এবং টাকা দেয়ার কাজটা করেন।

গরুর দামাদামির সময় জুবায়ের প্রায় ব্যাপারিদের সাথে টোন মিলিয়ে কথা বলে। মামা গরু কইত্তে আনছেন, দাম কত? মিলে কত?

এর আগে সে ব্যাপারিদের সাথে খাতির জমিয়ে নেয়।
মামা আপনার নাম কি? মামা বাড়ি কোনায় আপনার? গরু পালতেছেন কবে থাইকা?

তারপর বলে উঠে, আমারো গরু পালনের অনেক শখ মামা শহরে তো গরু পালনের জন্য জায়গা নাই তাই পালতে পারি না। এইভাবে সে ব্যাপারিদের সাথে খাতির জমাতে থাকে।

গতবারের গরু কেনার সময় বলে, মামা আমি জানি তোমরা জীবিকার তাগিদে গরু বেচো। দুই-তিন বছর শ্রম দিয়া গরু বিক্রি করাটা অনেক কষ্টের। আপনার লাল টুকটুকে দেশী বিরিশ গরুটা আমার বেশ পছন্দ হইছে, আমার আম্মার একটাই চাওয়া গরু দেশী, লাল এবং বিরিশ হইতে হইবে।

জুবায়েরর এই কথা শুনে রহমত মিয়ার মনে রহমত আসলো এবং সে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেল। গরুর কথা শুনে টপাটপ তার চোখ থেকে অনর্গল পানি পড়তে লাগলো।

ব্যাপারি বলে আমার গরুর নাম লালী। নিজের পোলার থাইকাও বেশি সময় ও স্নেহ করছি ওরে। রৌদে পুড়ছি, বৃষ্টিতে বিজছি, নিজে না খাইয়া অনেক সময় অরে খাওয়াইছি।

অন্যকারো থাইকা হইলে ১,৭০,০০০ চাইতাম এবং ১,২০,০০০ বেচতাম আপনারা ভালা মানুষ ১,১০,০০০ হইলে আমার খরচ পোষায় কিছু লাভ অইবো এর এক টাকা কমে হইলেও আমি বেচবার পারুম না।

কায়সার সাহেব এই দৃশ্য দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে গেলেন। তারা ১,১০,০০০ দিয়া লাল বিরিশ গরুটা কিনে নিল। ব্যাপারিকে বললো মামা একটু দু’আ কইরা দেন গরুটারে। ব্যাপারি বিক্রির সময় আবারো কান্নায় ভেঙে পড়লো।

ALSO READ  Happy Birthday – Rahul Bose – Actor, Sportsperson and Social Activist

জুবায়ের বলে মামা চিন্তা কইরেন না, আল্লাহর নামে সিন্নি দিমু গরুটারে। চলেন, একটু নাস্তা-পানি খাইবেন। নাস্তা করার পর জুবায়ের রহমত মিয়ার ফোন নাম্বার নিয়ে নিল এবং বললো মামা আপদে বিপদে স্মরণ কইরো।

রহমত মিয়া জুবায়েরকে দেখে অবাক অনেক ক্রেতা সে জীবনে দেখেছে জুবায়ের মত এইরকম ছেলেকে সে প্রথম দেখলো। এক ঘন্টায় কত মায়া সে তৈরি করে ফেললো যেন অনেক আগে থেকেই তাদের পরিচয়।

শুধুই কি গরু কেনা? কসাই ঠিক করা, বাজার করা, রুটি-পরটার অর্ডার দেয়া, গরুর জন্য খাবার কেনা সব গরুর প্রতি ভালোলাগা থেকে করতে থাকে এবং তার মাকে সে বলে “মা” কষ্ট কইরা মায়া বাড়াইয়া কুরবানী দিলে সাওয়াব মিলে বেশি।

মা রহিমা খাতুন বলে খোকা ঠিক বলেছিস এবং বলে খোকা তুই অনেক বড় হবি ইনশাআল্লাহ আমার দু’আ তোর সাথে আছে। অনেকে অনেক কিছু বলবে হাল ছাড়বি না কখনো বুঝলি? ছেলে প্রতুত্তরে বলে, তোমার দু’আ থাকলে আমি সব করতে পারবো ইনশাআল্লাহ মা দেখে নিও।

বাবা কায়সার সাহেব ছেলেকে দেখে অবাক। যে ছেলে ফেসবুক ছাড়া কিছু করে না বলে তিনি মনে করতেন সেই ছেলের মাঝে আরো সম্ভাবনা দেখতে পেলেন তিনি। ছেলেকে গিয়ে বললেন “আইম প্রাউড অফ ইউ মাই সান” এই না হলে তুই কায়সারের ছেলে জুবায়ের।

শোন তোর নেগোসিয়েশন স্কিল অনেক ভালো। তবে, ভালো হইলে হবে না, এটাকে ধরেও রাখতে হবে। উনি বললেন এইবার তো পরিস্থিতি ভিন্ন বাসায় আছিস অনলাইনে কিছু কোর্স করে স্কিলটাকে একটু শান দে বুঝলি।

স্কিল জিনিসটা ছুরির মত যত ব্যবহার বা আপগ্রেড করবি তত ভালো হবে। কুরবানির আগে কোন ছুরির ধার লাগে বলতে পারবি? যে ছুরিটা সারাবছর ব্যবহার হয় না। যেটা সবসময় ব্যবহার হয় সেটার ধার লাগে না বুঝলি।

ALSO READ  যাই, কেমন?

বাবার কথা ছেলেকে নাড়া দেয়। ছেলে তার বন্ধুকে নক দেয়। জুবায়েরর বন্ধু দিদার। দিদার সম্প্রতি YPS( Young Professional Smartification) নামক একটা ট্রেনিং নিচ্ছে। দিদারকে তার বন্ধুরা “দিদার দ্যা মোটিভেটর” বলে।

দিদার সহজেই জুবায়েরকে YPS নিয়ে বলে এবং মোটিভেট করে ফেলে। জুবায়ের দিদারের কথা শুনে ট্রেনিং টাতে অংশগ্রহণ করে। সে গতকালের Negotiation Fundamental Session থেকে যা শিখে তা হলো-

𝟭. 𝗡𝗲𝗴𝗼𝘁𝗶𝗮𝘁𝗶𝗼𝗻 𝗜𝗻𝘁𝗲𝗿𝗲𝘀𝘁: অন্যজন কি চায় এবং আমি কি চাই সেটা ভালোভাবে বুঝতে হবে। অপরিচিত কাউকে নেগোসিয়েশন এর সময় বিশ্বাস করা যাবে না। এক্ষেত্রে “দুষ্টু গরুর চাইতেও শূন্য ঘোয়াল ভালো কথাটা মনে রাখতে হবে।

𝟮. 𝗕𝗔𝗧𝗡𝗔: সব সময় ব্যাক আপ প্লান রাখতে হবে।
A কাজ না করলে B. B কাজ না করলে C.

3. এছাড়াও, জুবায়ের 𝑵𝒆𝒈𝒐𝒕𝒊𝒂𝒕𝒊𝒐𝒏 𝒔𝒕𝒚𝒍𝒆, 𝑷𝒓𝒊𝒏𝒄𝒊𝒑𝒍𝒆, 𝑷𝒓𝒐𝒄𝒆𝒔𝒔 ইত্যাদি সম্পর্কে জানতে পারলো ট্রেনিংটি থেকে।

জুবায়ের ট্রেনিং শেষে দিদারকে বলে- শেখার কোন বয়স নাই, চলো আমরা শিখতে চাই। দিদার বলে ঠিক বলেছিস দোস্ত। তোর মত বন্ধু পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার।

পরে তারা দুজন নিচের
কবিতা দিয়ে তাদের আলোচনা শেষ করে-

শিখতে গেলে নেই ভয়, নয় সংশয়।
শেখার জন্য প্রয়োজন সময়
এবং এনার্জির অজুহাত বা ছুতো নয়।

চলুন আজ থেকে
ইন্টারনেট ব্যবহার করে,
ঘরে বসেই হোক,
নতুন কিছু শেখার প্রত্যয়।

More From Author

What’s your Reaction?
+1
+1
8
+1
+1
+1
21
+1
+1
2
Subscribe
Notify of
guest
1 Comment
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
1
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x