Learn from yesterday
Skip to toolbar

আন্দামানের সেকাল-SANCHITA BISWAS-2nd-Bangla Article

আন্দামান নামটি শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সমুদ্রের নৈসর্গিক সৌন্দর্য, সবুজের সমারোহ, আদিবাসী জাড়োয়া প্রজাতি আর অবশ্যই সেলুলার জেল। কিন্তু আন্দামান কিভাবে এত জনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলো, কিভাবে লক্ষ্য লক্ষ্য বাস্তুহারা মানুষ আন্দামানে তাদের বসতি গড়ে তুলেছিল সেই ইতিহাস অনেকেরই অজানা। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বর্গ কিমি আয়তনের দ্বীপে বর্তমানে জনসংখ্যা সাড়ে তিন লাখের ওপরে, কিন্তু স্বাধীনতার পরে এই ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত দ্বীপে যখন জনসংখ্যা অত্যন্ত কম ছিল সে সময় ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় যে দেশভাগের পরে পূর্ব পাকিস্তান থেকে আসা শরণার্থীদের পূনর্বাসনের কাজে লাগানো হবে এই দ্বীপপুঞ্জ কে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলা ভাগের কারণে প্রায় লক্ষাধিক হিন্দু বাঙালি শরণার্থী তাদের দেশ পূর্ব-পাকিস্তান থেকে বিতাড়িত হয়ে আশ্রয় নেয় ভারতবর্ষের মাটিতে, তাদের এক বড় অংশ ঠাই নিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ক্যাম্পে। ১৪ ই মার্চ ১৯৪৯ সালে ৪৯৫ জন পূর্ববঙ্গীয় বাস্তুহারা মানুষকে একত্র করা হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের খিদিরপুর ডকে বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে, অনেক বাধা বিপত্তি বিপক্ষীয় রাজনৈতিক দলের উস্কানি উপেক্ষা করে তাদের সম্মিলিত করা হয়েছিল। মহারাজা জাহাজে ৫০ টি চাষী, ২২ টি তাঁতি, টি ৩৪ টি সূত্রধর পরিবার নিয়ে হয়েছিল পূর্ববঙ্গের আশ্রয়প্রার্থীদের প্রথম দলের আন্দামান যাত্রা। পশ্চিমবঙ্গের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ডঃ বিধান চন্দ্র রায় স্বয়ং সাক্ষী ছিলেন এই ঐতিহাসিক যাত্রার, তিনি প্রথম দলের যাত্রীদের বাণীবাহক এবং অগ্রদূত বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন। ৩০০ টি দ্বীপপুঞ্জ সমন্বিত আন্দামান প্রধানত তিনটি ভাগে বিভক্ত- গ্রেট আন্দামান, লিটল আন্দামান এবং অনেক অনামি জনবসতিহীন দ্বীপপুঞ্জ। আন্দামানে পুনর্বাসন এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আন্দামান কে উন্নত এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় রূপান্তরিত করা। পুনর্বাসন প্রধানত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছিল-১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ পর্যন্ত চলেছিল প্রথম ধাপের পুনর্বাসন এই ধাপে আগত মানুষদের স্থান দেওয়া হয়েছিল প্রধানত দক্ষিণ আন্দামানে, দ্বিতীয় ধাপ চলেছিল ১৯৫২ থেকে ১৯৬১ পর্যন্ত এই ধাপে ২৪১৩ পরিবারকে আন্দামানে আনা হয়েছিল , তাদের স্থান দেয়া হয়েছিল মিডিল আন্দামান, সাউথ এবং নর্থ আন্দামানে। ১৯৬২ সালের তৃতীয় ধাপের মাধ্যমে আগত ৭০০ পরিবারকে সাউথ নর্থ আর লিটিল আন্দামানে স্থান দেওয়া হয়।

ALSO READ  DOWN THE MEMORY LANE Part-1

বিশেষত স্থানীয় জনজাতীয় মানুষ আর জাড়োয়াদের জায়গা বাঙালিরা নিয়ে নেওয়ার ফলে একটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। তবে প্রাথমিক প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে একটা বন্য পরিবেশকে নিজেদের বাসস্থানের উপযোগী করে বসতি স্থাপন করেছিল বাঙালি জাতি। ১৯৫১ সালে আন্দামানের জনবসতি যেখানে ছিল ২৩৬৩, ১৯৯১ সালে সেটি হয় ৬৪৭০৬। বর্তমানে আন্দামানের অধিবাসীদের ৯৮ শতাংশ বাঙালি জাতি এছাড়াও রয়েছেন সেলুলার জেলের কয়েদিদের পরিবার। আর বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা নানা জাতি নানা ভাষার মানুষজন। ২০০৫ সালে আন্দামানের বাঙ্গালীদের ওবিসি সংরক্ষনের আওতার মধ্যে আনা হয়। বর্তমানে অনেকে আন্দামান কে “মিনি ইন্ডিয়া” ভূষিত করে এর বৈচিত্র তার জন্য।

More From Author

What’s your Reaction?
+1
+1
+1
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x