Do it now
Skip to toolbar

স্বাধীনতার স্বপ্ন-DEBBETHI BERA-1st-Bangla Article

আজকের দিনটা সারা জীবনের জন্য ঐতিহাসিক দিন হয়ে রয়ে যাবে ভারতবর্ষের ইতিহাসে। শুধু আজকের দিনটা কেন ২০২০ পুরো বছরটাই স্বরনীয়।

আজ প্রভু “শ্রী রাম” এর রাজত তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কাগজে-কলমে আগেই দেওয়া হয়েছে, আজ থেকে আনষ্ঠানিক প্রর্থার শুরু। ভাবতেই পারছি না রামচন্দ্রের আজ জমির কি প্রয়োজন পরল? আর কেনই বা উনি র্মতে রাজনৈতিক চক্ররান্ত করে জমি নেওয়ার চেষ্টা করলেন? রাজত নতুন করে প্রতীষ্টা করতে কয়েক শ কোটি টাকা খরচ হচ্ছে। যেখনে এই বছর করোনা পরীস্তিতে কয়েক হাজার পরযাই শ্রমীক ও তাদের পরিবার হাজার মাইল হেটে হেটে বাড়ী ফিরেছে। তাদের জন্য কোনো ব্যবস্বথা নেওয়া হয়েনি টাকার অভাবে। অনেকই প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের হিসেব রাখা হয়েনি। তাদের মধ্যে কয়েকটি বাচ্চা ছিল।

আমি যে ধর্মগ্রন্থ পড়েছি সেখানেতো কোথাও নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথার, মন্দিরের কথাতো ঈশ্বর বলেননি! তিনি তো বলেছন “মানুষের মনেই আমার বাস”। “মানুষের আত্মাকে সম্মান করো” তাহলেই আমার সম্মান। “মানবিকতাই মানুষের আসোল ধর্ম”। তাহলে যারা নিজেদের ঈশ্বরের ‘সেবক-সেবিকা’ বলে দাবী করেন তাদের কথার সাথে এই উক্তির মিল নেই কেন? আমার বাজার থেকে কেনা ধর্মগ্রন্থ আর এনাদের ধর্মগ্রন্থ কী এক নয়?! এনাদেরটা আসোল, আমারটা কি নকল তাহলে? নকল ধর্মগ্রন্থ কে প্রচার করছে? ঈশ্বরের বিরুধে অনন্য কোনো ধর্মের মানুষ ষড়যন্ত করে এই নকল বই ছাপিয়েছে? নীতিবাচক প্রচারের জন্য?

কিন্ত যাই বলুন নকল বইয়ের ঈশ্বর বেশী উদার ও স্বাধীন। আসোল ধর্মগ্রন্থ পড়া ‘সেবক-সেবিকা’ দের কথা শুনে ঈশ্বর কে খুব সংকৃরণ মনে হয়ে। যিনি নাকী মানুষে মানুষে ভেদ করেন। এনাদের কথা শুনে ঈশ্বরের বড় শত্রু বলে ‘মুসলমান’দের কে মনে হয়ে। এমন মনে হয়ে হৃন্যকাশপ, রাবণ, জড়াস্ন্ধ, দুযোধন এদের কেও মেনে নেওয়া যায়, কিন্ত ‘মুসলমান’ কে নয়। কিন্ত কি আষচার্য এই রাম মন্দির তৈরীর ও তার আশে-পাশের আরম্ভরের জন্য সরকার থেকে যে খরচ দেওয়া হচ্ছে তা প্রতেক ভারতবাসীর ক্ষরের অংশ। সেখানে মুসলমানরাও আছে। সেই টাকা নিতে ঈশ্বরের ‘সেবক-সেবিকা’ দের লজ্জ্য করছে না কেন?

ALSO READ  বাবা : অজস্র স্বপ্নের কারিগর-Md.Bakhtiar Mujahid Siam: 4th Place Winner

‘স্বাধীনতা’ শব্দটির অর্থ ছোটবেলায় বুঝতাম না। পরে জেনেছি। আবার বয়সের সাথে সাথে এর অর্থের পরিবর্তনও হয়েছে। ধীরে ধীরে বুঝেছি ‘স্বাধীনতা’ এই সমাজে স্বপ্নের মত।

‘লেখক’ আর ‘লেখিকা’ শব্দ দুটি নিয়ে অনেকেই অভিযোগ করে। কিন্ত যে সমাজে ‘talcum powder’রের বিজ্ঞাপ্নেও লিঙ্গ পক্ষপাত করে, সেখানে কি কোন অভিযোগ চলে? যার প্রধান লাইন হল ‘আপকো মারদানগী কা ওয়াস্তা’! রোজকার পছন্দের ধারাবাহীক গুলতেও একই অবস্থা। ছোট পোষাক পরে রাত্রীতে পার্টি করলে খারাপ মেয়েদের মধ্য ফেলা হচ্ছে তাদের। যারা এই সব ধারাবাহীক লিখছেন তারাই হয়েতো শুটিং এর পর রাত্রীতে পার্টি করছেন। তাহলে কেন সমাজের কাছে এই দৃষ্টান্ত তুলে ধরছেন।

স্বাধীনই যদি হয়ে থাকি তাহলে কালোদের ‘ময়লা গায়ের রং’ বলা হয়ে কেন? সরকারী হাসপাতালে সকাল ৮টার সময় এসেও ১০০ জনের পরে লাইন দিতে হয়ে কেন? এখনও কেন ভাল স্কুলে ভর্তির জন্য সুপারিশের প্রয়োজন পরে? কেন তাহলে বিখ্যাত লোকেদের কোনো ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু রাখি না? কেন তাদের মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করি? ২৪ ঘন্টা তাদের উপর নজর রাখি?

আসোলে এখন স্বাধীনতার প্রয়োজন মানুষের মনের। আমাদের মন ও মতিষ্ক দুটোই সীমাবদ্ধ হয়ে গেয়েছে। এখন সামাজীক স্তরে নয়, স্বাধীনতা চাই মানুষের মনে। আমরা একজন একজন করে নিজেদের মনকে যদি স্বাধীন করতে পারি তবেই গিয়ে আমাদের সমাজ স্বাধীন হবে। নাতো খুব ম্যেকি লাগে বছরে একদিন স্বাধীনতাদীবস পালন করতে।

More From Author

What’s your Reaction?
+1
+1
+1
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x