২০ জুন,২০২০
“ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা সব শিশুরই অন্তরে”–মিজান স্যার ক্লাসে ভাব সম্প্রসারণটি পড়িয়েছেন। স্যার যা ব্যাখ্যা দেন নাই কেন আমি অবন্তী মানি না । স্যারেরটা হবে পরীক্ষার খাতায়। আর আমারটা? আমার কাছে।আমার ব্যাখ্যা হল-সকল শিশুর অন্তরে তার পিতার জন্য অগাধ ভালোবাসা। বাবারাও সবসময়ই দোয়া আর ভালোবাসা দিয়ে ছায়া হয়ে থাকেন। যাই বাবাকে ১ম সাময়িকের রিপোর্ট কার্ডটা দেখিয়ে আসি।ওমা! বাবা মা কি আলোচনা করছে ল্যাপটপ!! ঠিক শুনছি তো। একটু তাহলে আড়ি পাতি। এই একটুর জন্য আল্লাহ তুমি রাগ করো না প্লিজ প্লিজ! বাবা-মায়ের কথোপকথন –“””শোন! অবন্তীর জন্য একটা ল্যাপটপ কিনব ভাবছি। এইচপির! বাবা দিবসে ওকে সারপ্রাইজ দিব।” “কি দরকার! মাত্র সেভেনে পড়ে!কি এমন করবে!” –উফ! আম্মুটা না সবকাজেই বাগড়া মারবে! যাই রুমে যাই এখনি বাবা ডাইনিং এ ডাকবে খেতে। বাবা তো সারপ্রাইজ রেডি করছে আমি কি দিব? যাও কিছু জমানো ছিল তাও আম্মুটা স্টুডেন্ট একাউন্ট করে রেখে দিল ৭ দিন ও হয় নি। টাকাটা তুলতেও পারব নাহ! আচ্ছা একটা রিপোর্ট কার্ড বানালে কেমন হয়? আহা! ভাবতে যা লাগছে না। সবসময় আমার রিপোর্ট কার্ড কেন হবে! দাড়াও এবার তোমারটা হবে—


“”Annual Report Card-2020″”
Of “World Best Father””
1.Spending Time—-A+
2.Buying Gift, Food–A+
3.Outlook & Inner look –A(because I’m so much adorable. )


“এই অবন্তী উঠ! কী বিড়বিড় করছিস! সারারাত ঘুমের মধ্যে কথা! “সারাপ্পু তোমার জন্য বাবার রিপোর্ট কার্ডটাও বানাতে পারলাম না। সারপ্রাইজটা দিব কেমনে!” “মাথা কি গেল তোর! বাবা পেলি কই?বাবা -মা থাকলে আজকে এই এতিমখানায় থাকতাম?”
অবন্তীর মনে পড়ল—সে তো জানেই না তার জন্মদাতা কে! এতিমখানায় তার নামের হিস্ট্রিতে লিখা আছে -“রাস্তার পাশে একটা ব্যাগ থেকে পাওয়া গেছে। কারা ফেলে গেছে জানা যায় নি।সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই এতিমখানায় স্থানান্তরিত।“

ALSO READ  The Unfinished Story

Written By : Humayara Tabassum

Institution : University of Dhaka

What’s your Reaction?
+1
+1
9
+1
+1
+1
44
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x