Value your time
Skip to toolbar

ধন্যবাদ, বাবা – Noman Ahmed : 2nd Place Winner

ছোটোবেলায় পড়াশোনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য যখন পেট ব্যাথার নাম করে চিৎকার করতাম আর আমার মা ভয় পেয়ে যেত তখন আমার বাবা চুপচাপ শান্ত স্বরে বলতো,”পানি খেলে সব ঠিক হয়ে যাবে।”


এভাবে আমি যতক্ষণ ব্যাথার ভান করতাম তত গ্লাস পানি আমার পেটে যেত।সবকিছুর মতো পেটেরও একটা সীমা আছে বিধায় আমাকেও থামতে হতো।তখন মাকে খুব ভালো মনে হতো আর বাবার উপর অভিমান করতাম।কেন বাবা এসব বোঝে না?


এখন মনে হয় জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষা বাবা তখন থেকেই আমায় দিতেন।অজুহাত না খুঁজে কাজ সম্পাদন করার শিক্ষা।ধন্যবাদ বাবা।


ছোটবেলায় বাবা আমাকে নিয়ে সারা ঢাকা ঘুরে বেড়াত,আমি চাইলেও,না চাইলেও।গাড়িতে চড়ার চেয়ে পায়ে হাটাই তাঁর বেশি পছন্দ। আমাকেও হাটাত আর চারপাশ চেনাতো।


বাবা দেখো,এটা সেক্রেটারিয়েট।


এটা সংসদ ভবন।


এটা বাংলাদেশ ব্যাংক।


এটা শাহজালাল বিমানবন্দর।


যেই ছেলেটা তখন দিনরাত টিভিতে কার্টুন দেখতে পছন্দ করত তার কাছে ব্যাপারটা মোটেও ভালো নয়,আর যখন সমগ্র ব্যাপারটাই ঘটতো হেটে হেটে তখন তো কথাই নেই!


তবে কেন জানিনা,বোধহয় সে কারণেই ঢাকার মতো শহরের সব অলিগলি এখন আমার একদম চেনা।যখন অন্যদের ঢাকার গোলকধাঁধায় হারিয়ে যেতে দেখি তখন বলি-
ধন্যবাদ বাবা।


ছোটবেলায় খুবই মানবেতর জীবনযাপন ছিল আমাদের। ২ রুমের ভাড়া বাসা,মানুষ ছিলাম ৫জন।


আস্তে আস্তে কীভাবে সবকিছুর পরিবর্তন আসলো।


নিজেদের বাসা এলো।হয়তো বাবার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই। তবে পরিবর্তন আসলেও বিলাসিতা আর আসেনি।চাইলেই গাড়ি কেনা যায়,আইফোন কেনা যায়।কিন্তু বাবা কেন জানি আগের মতো বাসেই চড়ে আর হেটে যায়,আর বাটন ফোনটাও আর বদলায়নি।


বাবা বলে জীবনে যত বড়,যত সম্মানিতই হও না কেন,নিজের অতীতকে ভুললে চলবে না।এ কারণেই বোধহয় বিলাসি প্লেটের সুস্বাদু খাবার যেমন বদহজম হয়না তেমনই গরীবের সাথে ডালভাত খেতেও আপত্তি থাকেনা। তাই তোমাকে ধন্যবাদ, বাবা।

ALSO READ  কবিকে স্মরণ


অতিথি বাবার খুবই পছন্দ। আতিথিয়েতা তাঁর শখ।আগন্তুক থেকে আত্নীয় – নিজে না খেয়ে থাকলেও অতিথির আপ্যায়নে কমতি নেই।সেখান থেকেই সবার সাথে মিশতে পারার গুণটা পাওয়া। যখন কারো বাসায় গেলে শুনতে পাই, “এই ছেলে কিন্তু পেয়ার ভাইয়ের ছেলে,এর আপ্যায়নে যেনো কমতি না পড়ে”, বুঝি এ হয়তো আব্বুর অতিথিপরায়ণ হবার মাশুল।তখন বাবাকে ছোট্ট একটা ধন্যবাদ দিই।


বাবাকে রাগতে দেখিনি,তবে তিনি ক্ষমাশীল সেটাও বলা যাবেনা।


ছোটবেলায় আমাকে নিয়ে সহপাঠীরা উপহাস করতো।বাবাকে গিয়ে নালিশ করলে বাবা বলতেন পড়ালেখা করো।আমার বাবার উপর ভীষণ রাগ হতো।কিন্তু বার্ষিক পরীক্ষায় প্রথম হবার পর যখন দেখলাম উপহাস ছেড়ে সবাই আমাকে রীতিমতো তোয়াজ করা শুরু করলো তখন বাবা বললো, “এভাবে প্রতিশোধ নিতে হয়,মুখে হাসি রেখে।” তখন জড়িয়ে ধরে বাবাকে ধন্যবাদ বলেছিলাম।


বাবাকে কখনো কাঁদতে দেখিনি।


দেখিনি বললে মিথ্যা হবে।একবার হলেও দেখেছি।যখন ছোট ছিলাম, ছুটি শেষে ক্যাডেট কলেজে যোগদানের সময় যাত্রাপথে বাবা আমাকে বুঝাতেন জীবনে কখনো কাঁদতে নেই,তাতে দুর্বলতা প্রকাশ হয়।কিন্তু কোনো একবার কলেজে ঢোকার পর যখন চিনি আর কফি আনায় আমাকে ফেরত পাঠালো সেগুলো তখন বাবাকে দিতে গিয়ে দূর থেকে দেখি বাবা অটোতে বসে কাঁদছে।সেদিন চা বাগানের ধারে বাবাকে কাঁদতে দেখে বুঝেছিলাম প্রিয়জনের জন্য হয়তো কাঁদা যায়,যদিও বাবা এটা আমাকে বলেননি।


নিজের অনেক গুণগান গেয়ে ফেলেছি!


এটা কিন্তু বাবা শিক্ষা দেননি।বলেন নিজের গুণ-বিত্ত-অহংকার নিজের মধ্যে রাখতে,অন্যের কাছে যেনো তা প্রকাশ না পায়।


কিন্তু কী করার বলুন?


বাবার মহত্ত্ব প্রকাশ করার জন্য একটু গান তো গাওয়া যেতেই পারে!


ও আরো একটা ব্যাপার!


তিনি খুব গান পছন্দ করতেন,তবে ছোটবেলায় আমাকে গান শেখানোটা তার কাছে প্রায় অসম্ভব ছিলো। তিনি বলেন আমাকে ক্যাডেট কলেজে পাঠানোর অন্যতম কারণ আমি যেন গান শিখতে পারি।তাই হয়তো আজ বড় হয়ে সংগীতশিল্পী হবার স্বপ্ন দেখি।
ধন্যবাদ বাবা!

ALSO READ  Dad:A Daughter's First Love - Fiza Imran : 4th Place Winner

Written By : Noman Ahmed

Institution : Sylhet Cadet College

More From Author

What’s your Reaction?
+1
17
+1
+1
41
+1
+1
+1
+1
2
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x