১৭ টি বছর এ জীবনের ফেলে আসা এক ঝাঁক সুখের স্মৃতি। আবেগ, কষ্ট, ব্যাথা বেদনা অন্তরালে আজীবনের জন্য সাজিয়ে রেখে সহ্য করে মানিয়ে নেওয়াই হয়তো জীবন। কিন্তু কখনও ভুলা যায় না, ভুলা হয়না, হয়তো বা কিছু আড়ালেই তোলা থাকে কিন্তু নিঃশেষ হয়না। খুব যত্ন করে ভালোবেসে ভালোলাগার মুহূর্তকে স্মৃতি করে কষ্টের আবরণে মুড়িয়ে বুকের বামপাশের স্পন্দনের কাছে জমা রাখা আছে। বুকের ধুকধুকানিতে চিরায়িত আছে সেই ‘আব্বু ডাক’। আজও ডাকি, কষ্টের কম্পনে চিৎকার করে ডেকে উঠি ‘ আব্বু আব্বু ‘ কিন্তু সেই চিৎকার যে নিশ্চুপ, আজ আর শব্দ হয় না।


বাবা প্রতিটি সন্তানের কাছেই এক অপার ভালোবাসা কিন্তু আমার জীবনে বাবা কি ছিল!


জানানোর জন্য কোনো শব্দ, বাক্য বা অধ্যায়ই পূর্ণ সফলতা পেতে হুমড়ি খেলেও, চেষ্টা জুড়ে থাকবে শুধুই ব্যার্থতা। জ্ঞান হবার পর থেকে এক অদ্ভুত একজন সম্মানের ভালোবাসার মানুষ ছিল আব্বু। সবার উর্ধ্বে, ভালোবাসার সম্মানের আদর্শে যত্নে সবকিছুর চেয়ে দামি। শুধু আজ প্রত্যক্ষে পাইনা কিন্তু তার কন্ঠ, কথা, আদর, দোয়া, পাশে থাকার মুহূর্ত আজ আরো বেশি সত্য ও রঙিন হয়ে মন দেওয়ালের প্রতিচ্ছবি।
মানুষের জীবনের সফলতার গল্প গুলো ভিন্নতর কঠিন। অজপাড়াগা থেকে বিলেতের ঘাত প্রতিঘাত সংগ্রাম পেরিয়ে বাবা দিয়েছে আমাদের এক উজ্জ্বল জীবন। সাত কন্যার বাবা হয়েও কখনো কিঞ্চিৎ পরিমাণ অবহেলা ভালোবাসার কমতির সাক্ষী করিনি। কুসংস্কারের ঘাঁটি পেরিয়ে আমাদেরকে নিয়েই জীবনের শেষ সময়টুকু আঁকড়ে থেকে হাজারো সুখের মুহূর্ত উপহার দিয়েছে। এই পিতাপাগল কন্যাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করে মানুষ হবার তাগিত দিয়ে এক সুন্দর পৃথবীর আলো দেখিয়েছে।


আমার অনুপ্রেরণা আমার বাবা, আদর্শের স্বর্ন শিখরে আমার বাবা, ভালোবাসার মহত্ত্বে আমার কাছে আমার বাবা।
আজও যেখানে দুগ্রামের মামলা দ্বন্দ্ব দূর করার অনুরোধে বাবার পক্ষে শুধু আম্মুর এক উপস্থিতি সব শান্ত করে দেয়। আমি সেই বাবার সন্তান হয়ে ধন্য। সত্য কথা সম্মুখে বলে দিয়েও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে তৎক্ষণাৎ রসিকতায় হাসিয়ে মন জয় করার রহস্যময় ক্ষমতাধারী পিতার সন্তান হয়ে আমি ধন্য।প্রতিটি দিন আব্বু কাছে ডেকে এত বড় হয়ে যাওয়ার পরও এক শিশুর মতো আদর করতো “আমার আব্বা, আমার কলিজা, আমার ময়না, টিয়াপাখি, আল্লাহ আমার আব্বাকে অনেক বড় করো, বাঁচায় রাখো, তোমাদের জন্যই তো আমি বেঁচে আছি” কথাগুলো আজ বড্ড বেশি প্রতিধ্বনিত হয়। অসুস্থতার পরে যে আদর করে বলতো “বাবা আমি মরে গেলে কাদঁবানে” কথাটা আজ বড্ড বেশি কাঁদায়।

ALSO READ  বাঙাল‌ বর্ণবাদ


5 টাকার টিফিনের টাকা থেকে একটু একটু করে গুছিয়ে জীবনে প্রথম উপহার দিয়েছিলাম ঈদে আমার বাবাকে। এসএসসি পরীক্ষার শেষ দিন থেকেই নিজ কোচিংয়ে পড়ানো একটি সুযোগ পেয়ে নিজের উপার্জিত প্রথম অর্থ আব্বুর হাতে তুলে দিয়েই গর্বের সেই যে হাসি কান্নার দৃশ্য। আজও ভুলিনি। সময় বড্ড কঠিন হয়তো ভবিষ্যতে অনেক ভালো স্থানে উপনীত হলেও আব্বুর সেই হাসি কান্না মাখা মুখ খানা দেখা হবে না।
হেলায় হারিয়ে যেতে দিওনা হে সন্তানেরা, বাবার সাথে থাকা সময় টুকুকে আঁকড়ে রেখো।


কোন মন খারাপের ঠাঁই পায়নি আব্বুর আড়ালে।একটু চুপচাপ মনমরা থাকলেই জিজ্ঞাসা করাতে ব্যস্ত আব্বু কি হয়েছে! কে কি বলছে! বল আমাকে কি হয়েছে! মন খারাপ কেন। সেই যে ছটফটানি! সেইই ছটফটানি দৃশ্য স্মৃতির পাতায় এসে আজ মন খারাপের কারণ।
হাজারো ভালো থাকার ভিড়েও আব্বু বলে ডাকতে না পারার শূন্যতা বড্ড অসহায়ত্বের।


তবে হ্যাঁ, আজ হারানোটা ও শক্তি হিসেবে নিয়েছি। আব্বুকে হারানোর কষ্ট বুকে বেঁধে যদি জীবন যুদ্ধে বেঁচে

Written By: Natasha Shikder

Institution : Khulna University

What’s your Reaction?
+1
+1
14
+1
+1
+1
23
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x