(১)
একেকটা টানেল ভেদ করে, প্রিয় সব মুখের রেখার মোহ খুঁজে খুঁজে ;রাজকীয় শামুকের


মন্থর গতিতে এসে নাকে লাগে কাঠের তসবির সুবাস। দূরগন্ধবহ।

এখানে প্রত্যেকটা পুঁতিতে আমার নামে প্রার্থনা।

জায়নামাযের গোড়ালি আর কপাল; মখমলওঠা-বিক্ষত-জীর্ণ।

সমৃদ্ধির বোধিগ্রস্থ আর্তনাদ কপালে, গোড়ালির অপসৃত চেহারায় বন্দী রাখা

সব সূত্রচ্ছিন্ন অভিশাপ, ঘেঁষতে দেয়নি আমার দেহে।


এসব; পিতার নামাযঘরে গোপন।


লণ্ঠনের ভাঙা কাঁচ ফুটবে পায়ে, চোখে তন্দ্রার গাঢ়তা, তবু প্রত্যেক আতপ্ত মধ্যাহ্নে


আমার – আমাদের পায়ে জড়িয়ে দেবে নরম ঘাসের স্পর্শ, চোখে স্নায়ুশীতল স্বপ্ন।

কখনো বলেছে ভালোবাসি? (বলেনি)


কিন্তু সিগারেটে কালো ফুসফুস থেকে ঝরে পড়ে ভালোবাসা প্রতি রাতে।

কুড়িয়ে নিয়ে গড়েছি ঈশ্বর।


ভালোবাসাকে রূপ দিতে গেলে


-প্রেয়সী মনে পড়ে ( হাস্যকর)।


কিন্তু ঈশ্বরের রূপ দিলে মনে পড়ে – জনক।


পূর্বপুরুষের উষ্ণতা আর শীতলতা হাড়ে বয়ে দণ্ডায়মান জনক।


নিভৃততম বাসনা ছিল হাসি দেখা ( প্রেয়সীর নয়, পিতার)।


আঙুল আঁকড়ে পেরিয়েছি নদীর দীর্ঘতম চরাচর, কখনো মৃত ঝিনুকের মতো নিথর ঠোঁটে হাসি ফোটেনি।

এমন সত্তা, যেন হাসিতে খসে যাবে অহংয়ের গাঢ় চাদর।


অথচ কড়িকাঠের মশারী নাড়াতে খুব ভোরে দেখেছি গোপন হাসি।

যেন সাদা চকে সাদা দেয়ালে লিখেছে বাধ্যগত দম্ভের স্বীকারোক্তি।

(২)


“এগুলো সব পুরনো শ্যাওলামাখা গল্প। আমি বৃদ্ধ, দুর্বল – চলে যাব।‘’


এবং একসময় চলে যাবে, সবকিছু জানি।

কিন্তু প্রতিদিন কাঠের তসবির সুবাস আশীর্বাদ ছড়াবে, অথচ হাসি নয়।

একখণ্ড বিদেহী মেঘ মাথার

ওপর ছায়া দিয়ে ঘুরে বেড়াবে, অথচ জড়িয়ে ধরা নয়।


আমার পিতৃপুরুষের চোখে শিমের নীল ফুলের মতো জন্মাবে ভূমিবদল।


মাটির ধাতবমুক্ত গভীরে।


অথচ ইশারা নির্মাণ করবে ভালোবাসার।


সাদা চকে, সাদা দেয়ালে, সারা শতাব্দী।


আমার জন্য,আমাদের জন্য।

Written By : Jobair Riddhi

Institute : Sylhet Cadet College

What’s your Reaction?
+1
+1
24
+1
+1
+1
13
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x