আমরা যদি আমাদের জীবনের নির্দিষ্ট একটি একটি দিন করে চিন্তা করি,তাহলে দেখা যায় যে আমরা বিশেষ কিছুই করতে পারিনি জীবনে,অথচ দিন গুলা ঠিক ই চলে যায় জীবন থেকে।

একজন মানুষ দিনে প্রায় ষাট হাজারের মত চিন্তা করে,কিন্তু এর মধ্যে ৯৫% চিন্তা আমরা গতকাল ও করেছি,তার আগেও করেছি,তাই নিজেকে নতুন ভাবে উপস্থাপন করতে পারি না আমরা।নিজের প্রতি নিয়ন্ত্রণ,আত্ম উন্নয়ন করতে পারি না।আর তাই বলা হয়,If you don’t act on life,Life starts to act on you.

আমরা আমাদের নিজেদের কোনো লক্ষ্য ঠিক না করেই এগিয়ে যেতে চাই যার কারণে আমাদের কোনো লক্ষ্য ই অর্জন করা হয় না।যেমন:আমরা গাড়ি চালানো শুরু করলে চালাতেই থাকি,কিন্তু আমাদের যে থামতে হবে,থেমে গাড়িতে আমাদের তেল নিতে হবে,সেসব আমরা ভাবি না।দিনশেষে আমরা চাইলেও আর গাড়ি চলে না।

আমরা জীবনে সুখ পাই না,আবার আমরা হাসতেও চাইনা।একটি বাচ্চা দিনে হাসে ৩০০ বারের মত আর একজন পূর্ণ বয়ষ্ক ব্যক্তি হাসেন গড়ে ১৫ বার।কে সুখী বলতে পারবেন?এভাবেই জীবনের মানে না খুজে আমরা অনবরত দোষারোপ করে যাই জীবনকে।

জীবনের প্রতিটা সফলতার পিছনে ১০০ টা ব্যর্থতার গল্প থাকে।কিন্তু আমরা ব্যর্থতার গল্পগুলোর সাথেই হেরে যাই।মনে করুন,আপনাকে কোনো ব্যায়াম করতে বলা হলো।আপনি একটা সময় আর পারছেন না একদম ই,তাই থেমে গেলেন।আপনাকে খুব কঠিন একটা শর্ত দিয়ে যদি আবারো ব্যায়াম টি করতে বলা হয়,আপনি আরো কিছু টা করতে পারবেন হয়তো।এটা কিন্তু আপনি নিজেও জানতেন না।এক্ষেত্রে নিজের সামর্থ্য বুঝতে পারিনা দেখেই আমরা পিছিয়ে পড়ি।

খ্যাতনামা লেখক ও মোটিভেশনাল স্পীকার রবিন শর্মা এরকম অসংখ্য বাস্তবতা কে নিয়ে সাজিয়েছেন এই বইটি।এই বইটি আপনাকে আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দিবে যেমন আপনার তথাকথিত অপারগতা,ঠিক তেমনি চোখের সামনে দেখিয়ে দিবে জীবনে এই সমস্যাগুলোর সমাধানের উপায়।

ALSO READ  ত্যাগ এবং বাবা - Chowdhury Ahmed Murtaza : 5th Place Winner

এই গল্পটি একজন খ্যাতনামা উকিলের যার নাম জুলিয়ন ম্যান্টল,তার জীবনে কোনো কিছুর ই অভাব নাই।টাকা,বাড়ি,নারী,গাড়ি,খ্যাতি সব ই আছে তার শুধু মনে শান্তি নেই,যার কারণ তিনি জানেন না।একদিন কোর্টে ট্রায়াল চলাকালীন সময়ে তিনি হার্ট এটাক করেন এবং ডাক্তার বলে দেন যে তিনি তার প্রফেশনাল জীবনে আর ফিরে যেতে পারবেন না।তাই এটা কে দুর্ভাগ্য মনে না করে তিনি এটিকে একটি সুযোগ মনে করে বেড়িয়ে পড়েন নিজের জীবনকে বুঝতে,শান্তির খোজে।বিক্রি করে দেন সব কিছু,এমনকি তার পছন্দের ফেরারি গাড়িটিও।ভারতবর্ষের সিভানার সাধু দের খোজ করতে করতে পেয়ে যান যোগী রমন কে যার সাথে থেকে তিন বছরের সাধনায় তিনি উপলব্ধি করতে পারেন নিজেকে।জীবনে প্রচুর টাকা পয়সা অর্জনের চেয়ে ভালো থাকা টা যে আগে দরকার সেটি বুঝতে পারেন তিনি।একটি খুব উদ্ভট গল্প,যেটিতে আছে একটি বাগান,লাইটহাউজ,জাপানি সুমো কুস্তিগির,পড়নের গোলাপি তার,স্টপ ওয়াচ,হলুদ ফুল ও হীরে বিছানো পথ,এই সাতটি প্রতীকী চরিত্রের গল্পের মাধ্যমে সেই আইনজীবী উপলব্ধি করতে পারেন জীবনযাপনের আসল ধরণ,সাথে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ,নিজেকে উন্নয়ন বিবিধ বিষয়।এরপর নিজের জীবন টা কে অন্য রকম করে উপভোগ করতে শুরু করলেন তিনি।

তিন বছর পর তিনি ফিরে আসেন তার চেম্বারের সবচেয়ে কাছের প্রিয় উকিল জনের কাছে,তার জীবনের গল্প বলতে।জীবনের মানে তিনি জানাতে চান অনেককে,যেটি কথা দিয়েছিলেন সিভানার সেই যোগী রমণকে।

এই বইটি সকলের পড়া দরকার।নিজেকে চিনার জন্য,নিজের সুখের সন্ধান পাওয়ার জন্য।জীবনকে উপলব্ধি করার সময় ভবিষ্যতে নয়,অতীতেও নয়,বর্তমানে।কারণ প্রতিটি নতুন সূর্যোদয় মানেই নতুন করে জীবনের সঞ্চার।

What’s your Reaction?
+1
+1
26
+1
+1
+1
8
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x