Polish your weaknesses
Skip to toolbar

তাসের ঘর

-একবার ও ভেবে দেখেছো এর শেষ কোথায়?
– এতো ভাবার কিছু নেই ,শ্রোতের টানে আমরা এগিয়ে চলেছি..এমনটাই চলতে দাও…তারপর দেখা যাবে।
-তোমার বিয়ে হয়ে গেলে তুমি তোমার নতুন জীবন নিয়ে ব‍্যস্ত হয়ে পোড়বে, তখন আমার কি হবে?
– কি আবার হবে, তুমি এখন যেভাবে তোমার শারীরিক চাহিদা আমাকে দিয়ে মেটাতে পারছো,যা তুমি তোমার স্বামীর কাছ থেকে পাওনা,তখনও পাবে, ডোন্ট ওরি।
কত সহজে কি কঠিন কথা টা বলে দিল সৌজন্য, একবার ও ভেবে ই দেখলো না শালিনী ঠিক কি চায়।
শালিনী ষ্পষ্ট বুঝতে পারছে নতুন করে আর কিচ্ছু পাওয়ার নেই, না সৌজন্য ওকে কোনো দিন সামাজিক স্বীকৃতি দিতে পারবে, না শালিনী ওকে । শালিনী একবারের জন্য বলে উঠতে পারলো না যে তুমি বিয়ে টা কোরোনা, আমি তোমাকে কিছুতেই অন‍্যের হয়ে দেখতে পারবো না,ইনফ‍্যাক্ট ও বলতেও চাইলো না ,কোন অধিকারে বলবে?ভালোবাসার অধিকার?যার অর্থ ই ওরা বোঝেনা।ওরা সবাই শুধু শরীর খোঁজে।ওদের কাছে ভালোবাসা মানে শুধুই শরীরের খেলা, শরীর ছাড়া সম্পর্কের কোনো অস্তিত্ব নেই ওদের জীবনে।কেউ মন বোঝেনা, বোঝার চেষ্টা ও করেনা। আজ খুব বৃষ্টি হচ্ছে, মন কেমন করা উদাসী হাওয়া বইছে বাইরে,  চুপচাপ বসে জানলা দিয়ে বৃষ্টি দেখছে শালিনী,কি যেন ভাবছে, একরাশ উঠালপাঠাল করা মেঘেদের ভীড় জমছে মনের ভেতরে।কাকে খুঁজে চলেছে নিরন্তর।কন্টিনিউ ফোন টা ভাইব্রেট হচ্ছে,ম‍্যাসজ ঢুকছে ফোনে, ও জানে ওগুলো সৌজন্য র ই ম‍্যাসজ ঢুকছে,আজ আর রিপ্লাই টুকুও করতে ইচ্ছে করছে না,অথচ এই শালিনী দুদিন আগে ওবধি অপেক্ষা করেছে কখন সৌজন্য ফ্রী হয়ে পিঙ্ করবে ,একসাথে কিছু সময় কাটাবে।সৌজন্য খুব সুন্দর গান করে, মন রাঙানো কথা বলতে পারে,শালিনীও ওই মন রাঙানো হাত ছানি উপেক্ষা করতে পারেনি, প্রেমে পড়েছিল ওর, একেবারে প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া যাকে বলে। প্রথম টা মনে হয়েছিল এবারের সম্পর্ক টায় কোনো ফাঁক নেই,ওই মন ভোলানো একগুচ্ছ কথা দেওয়া-কতগুলো ছেড়ে না যাওয়ার ভন্ড প্রতিশ্রুতি, বোধহয় সত্যি সেসব,এবারের মানুষ টাকে ভরসা করাই যায়,বিশ্বাস করা যায়, ভালোবাসা যায়,এসব ই ভেবে এগিয়ে ছিল শালিনী।তবে আজ হঠাৎ কি হলো? ও কি জানতো না যে প্রত‍্যেকটা সম্পর্ক ই একটা পরিনতি দাবি করে, আর সে পরিনতি শুধুই শারীরিক চাহিদা মেটানোর পরিনতি, কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই তাতে।কারন শালিনী যে বিবাহিত।বিবাহিত নারীর সাথে সম্পর্কে জড়ানোর এটা একটা বিরাট নিশ্চিন্তি,না থাকে কোনো কমিটমেন্ট, না থাকে কোনো সামাজিক দায়বদ্ধতা,থাকে শুধুই ক্ষনিকের খেলা।আচ্ছা কেন উপভোগ শব্দ টার ক্ষেত্রে শুধু মাত্র একটা পুরুষ কেই দায়ী করা হয় ? একজন নারীও কি সমান ভাবেই একজন পুরুষের শরীর উপভোগ করে না ?কেন শালিনীর বারবার মনে হয় যে ওর জীবনে আসা পুরুষরা শুধুই ওর শরীর উপভোগ করতে চায়,আর সঙ্গে সঙ্গে কি নিদারুণ ঘেন্নায় নিজেকে গুটিয়ে নিতে চায় ওর মন।কিন্তু কোথায় যাবে ও ? কার কাছে যাবে?স্বামীর কাছে?ওর মন সবসময় যে শুধুই আর একটা নির্মল মন খুঁজে চলেছে যার ওপর ও ওর মনের ভার টুকু চাপিয়ে দিতে পারে। কিন্তু যে স্বামী র সাথে কোনোদিন মানুষিক বন্ধন টাই তৈরী হয়নি,তার কাছেই কি যেতে হবে?তবে কি এ কথা টাই ঠিক যে,স্বামী মেয়েদের শেষ একমাত্র আশ্রয়?
শালিনী নিজেকে উত্তর দেয়- না ,তা কখনোও হতে পারেনা, যে মানুষ টা কখনও আমার সুখ দুঃখ,চাওয়া পাওয়া, আনন্দ বেদনার খোঁজ টুকু রাখেনি,যে মানুষটা আমার অভিমান, অপেক্ষা, এগুলো র মর্ম বোঝেনি, সব সময় নিজের জগৎ নিয়ে থেকেছে,দূরত্ব বজায় রেখে শুধু ই নিজের ইচ্ছে কে দাম দিয়ে গেছে, সেই মানুষ টাকে আমি কখনোই আমার শেষ আশ্রয় ভাবতে পারবো না।

ALSO READ  যদ্যপি আমার গুরু:গুরুর প্রতি স্মৃতিচারণের অমর এক বয়ান

More From Author

    None Found

What’s your Reaction?
+1
14
+1
+1
21
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x