Never stop learning
Skip to toolbar

ঝিলপাহাড়ি

কঠোরভাবে প্রেমিক মনস্কদের জন্য।

এই গল্পের আমি নায়ক। ওকি হাসলেন যে। ঠিক আছে মানছি আমি জর্জ ক্লুনির মত দেখতে নই। বেন এফলিকের মত লম্বা নই। আর তাছাড়া ওসব সিনেমার নায়ক। আসলে এই আমার মত নাহয় আমার থেকে একটু ভালো হয় নায়করা। যাক গে। আমার আসল চার্ম টাই বলিনি। আমি বাঙালি হয়েও দার্জিলিংয়ে থাকি। হিংসা হলো তো? হবেই। মন ভালো করা শহর যে দার্জিলিং।ওই যে নীল রঙা বিল্ডিং চার্চের মত চুড়ো ওটা দার্জিলিং গভর্মেন্ট কলেজ। আমি ওখানে পড়ি। ফিজিক্স নিয়ে। আমি আর আমার চারবন্ধু এক জটিল আলোচনায় বসেছি। আমি, সঞ্জয় মুখার্জি, সুরজ তামাং, দিতিপ্রিয়া মজুমদার, আর পুনম ডেঙজংপা। না না পুনম ড্যানির কেউ নয়। আমিও প্রথমে তাই ভাবতাম। সুরজ পাহাড়ি ছেলে তাই জটিল আলোচনায় মাথা ঘামায় না। ও ক্যান্টিনের সুপে চিকেনের পিস পেলেই খুশি।
– তুই কি সত্যিই নীহারিকার প্রেমে পড়লি?
দিতিপ্রিয়া সঞ্জয়কে প্রশ্ন করলো।
– তাইতো মনে হচ্ছে। ওর কথা ভাবলেই কেমন শীত করে রাতে।
সঞ্জয় কেমন উদাস হয়ে বললো। বোঝো কান্ড দার্জিলিংয়ে শীত করবে নাতো কি দমদমে করবে? এই বছর তো দু ডিগ্রীতে ঠেকবে শুনছি। তখন যে কতজনের প্রেমে পড়বে কে জানে।
– আমি বলি কি………
আমার কথা শেষ করতে দিলোনা পুনম।
– যার গার্লফ্রেন্ড লেঙ্গি মেরে ভেগেছে তার থেকে কিছু প্রেমের ব্যাপারে শোনা মানে শেক্সপিয়ার পড়ে অংক বোঝা।
পুনম কিন্তু শিলিগুড়ির মেয়ে হয়েও চ্যাটাং চ্যাটাং কথা বলে। এভাবে অপমান করাটাও একটা আর্ট। আপনারা হাসলেন যে? ভেগেছে আমার গার্লফ্রেন্ড। এনাক্ষী। ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট। এক বছরের প্রেম ছিল। শেষ বছর কলেজ পিকনিকে একটু বেশি রাম খেয়ে আসনা নোরগে বলে এক জুনিয়র মেয়ের কাঁধে মাথা রেখে কেঁদে কেঁদে কাঞ্চনজঙ্ঘা কত সুন্দর সেটা শুনিয়েছিলাম। বিশ্বাস করুন মনে পাপ ছিলোনা। সেটাই আমি এনাক্ষীকে বোঝাতে গেছিলাম পরদিন কলেজে। বুঝেছিলাম ঠান্ডায় চড় খেলে গালটা কেমন টনটন করে। তারপর আর কি ফেসবুক হোয়াটসএপ থেকে ব্লক। ফেক প্রোফাইল খুলে চেষ্টা করেছিলাম। এনাক্ষী বুঝে গিয়ে এস এম এস পাঠিয়েছিল, ‘ স্কাউন্ডরেল’।

নীহারিকা কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে এসেছে শুধু কলেজ নয় এই সঞ্জয়ের মনেও উঠে এসেছে।
– আমার মনে হয় বলে দেওয়াই ভালো।
আমি সুরজের কথা শুনে অবাক হলাম। ওতো এত ইনভলব হয়না এসবে। উত্তম দা কি তাহলে ক্যান্টিনের সুপে একটু বেশি চিকেন দিয়েছে।
– আরে নারে। ওতো সোজা নাকি? আগের সপ্তাহে শেরিং প্রোপজ করলো। কি বলেছিলো জানিস নীহারিকা, বলে ছাগলের মত পেছনে আসবে না একদম। ভাব।
সঞ্জয় বললো।
– খুব বাজে হয়েছে। ছাগল এরকম পেছনে আসে ওকে কে বললো।
আমি বেশ জোর দিয়ে কথাটা বললাম। পুনম আমার হাতটা জোরে টেনে দিলো।
– তোর টা হচ্ছেনা। চুপ করে থাক তুই।
আমার কানের কাছে পুনম বললো। এটা শুনে আমি অভ্যস্ত। আমি চুমু খেতে গেলে এনাক্ষী বলতো কিছুই পারিস না। তোরটা ঠিক হচ্ছেনা।
কলেজ শেষে আমরা যে যার বাড়ি রাস্তা ধরলাম। সঞ্জয় আর দিতি হোস্টেলে থাকে। কলেজের রাস্তাটা খুব সুন্দর। পাকদন্ডী দিয়ে রিচমন্ড হিল থেকে নীচে নেমে গেছে। বাবা বলে আগে এখানে বরফ পড়ত। এখন পড়েনা। এনাক্ষী ও আমার জীবনে এরকম বরফের মত হয়ে যাবে? রিচমন্ড হিলে আমার অনেক স্মৃতি।
– ভাবছি যদি নীহারিকা না বলে আমার কি হবে রে? একা হোস্টেলে কিভাবে একা থাকবো?
সঞ্জয়ের এই স্বভাব। এক কথা ঘেনিয়েই যাবে।
– তাহলে বলে দে।
আমি বললাম।
– যদি খচে যায়?
সঞ্জয় বললো।
– তাহলে বলিস না।
আমি রীতিমত বিরক্ত হয়ে বললাম।
– না না বলে দেবো। তোরা থাকবি তো। চাপ কিসের।
কথা বলতে বলতে রিচমন্ড হিল পেরিয়ে আমরা নেমে এলাম লেবং রোডে। এখান থেকেই টুরিস্ট ভিড় টা চোখে পড়ছে। গোটা দার্জিলিংটা উপচে পড়ে এই সময়টা। রাস্তার দুধারে পশমের কাপড় নিয়ে ভিড় হয়ে যাবে একটু পর। টানা ম্যাল অব্দি। আমার সব মিলিয়ে দার্জিলিং খুব ভালো লাগে।

ALSO READ  নাগরিকদের জানা ভালো:যে অভিধান প্রতিটি নাগরিকদের জন্য

ম্যালের আগে অর্কিড হোম স্টে। সেখানে সোনাম আন্টি মোমো বানায় বিকেলে। আমরা মাঝেমধ্যে যাই। জায়গা না থাকলে সোনাম আন্টি আমাদের রান্নাঘরে নিয়ে বসায়। আজ আমি আর সঞ্জয় আছি। সোনাম আন্টির রান্নাঘর দিয়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়। শীতকালে দেখা যায়না।
– কিরে তুই নীহারিকাকে বলবি না?
আমি সুরুৎ করে একটা চিকেন স্টিম মোমো মুখে চালান দিয়ে বললাম।
– এইতো বলবো। এসবে তাড়াহুড়ো ঠিক নয়। প্রিপারেশন লাগে।
এত কি প্রিপারশন লাগছে কে জানে? এত কিছু তো টয় ট্রেন বসাতেও লাগেনি বোধ হয়। আমার বিরক্ত লাগলো।
– শোন বলবি নাতো। রোজ কানের কাছে ঘ্যানঘ্যান করবি না। আন্টি সুপ দাও।
এক চামচ সুপ খেয়ে মাথা ঠান্ডা হলো আমার।
– যদি না বলে?
সঞ্জয় মোমো ভরা মুখে বললো।
– কেন আগে কেউ না বলেনি? ন্যাকামো করিস না।
সোনাম আন্টি বোধ হয় দার্জিলিংয়ের সবচেয়ে ভালো মোমো বানায়। আমরা অর্কিড থেকে বেরিয়ে ম্যাল এর দিকে হাঁটা দিলাম। টুরিস্ট ভরে আছে চারিদিকে। কয়েকঘন্টা পর ঝুপ করে এখানে অন্ধকার নেমে আসবে। পাহাড়ে রাত আগে নামে। একটু এগোতেই যেন ম্যালে বসন্ত নেমে এলো। কুয়াশা ঠেলে এলো এক ডালিম ফাটা রোদ। এনাক্ষী আর নীহারিকা এদিকে আসছে। ঠান্ডায় এমনি গলা শুকিয়ে যায় আমার তারউপর পারদ নিম্নমুখী। গলা শুকিয়ে পুরো ইয়ে হয়ে গেছে। আমি আর সঞ্জয় ওদের পাশ দিয়ে যেতে গেলে এনাক্ষীর চোখ পড়লো আমার উপর। আমি শুনলাম, ‘ স্কাউন্ডরেল’। নীহারিকা অবাক হয়ে তাকালো একটু। আমি আর কি করব? হাসলাম।
– তোর মত স্কাউন্ডরেল এর সাথে মিশলে কিছু হবেনা আমার।
সঞ্জয় আমাকে ছেড়ে একটু এগিয়ে গেলো ম্যাল দিকে। আমার খুব ইচ্ছা করছিল কুয়াশা সরে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিক। আমিও টুরিস্টদের সাথে ভিড় করে দেখবো। তারপর এনাক্ষীকে গল্প করবো।

পরদিন কলেজের সামনে রিচমন্ড হিলের রাস্তায় জটলা দেখে থেমে গেলাম আমি দিতি আর সঞ্জয়। দার্জিলিংয়ে সেরকম হুজ্জতি হয়না। তাই কিছু হলে লোক দেখার সুযোগ ছাড়েনা। তারমধ্যে এটা টুরিস্টদের সময়। তাই একটু ভিড় বেশি। আমরা তিনজন এগিয়ে দেখলাম শেরিং হাঁটু গেড়ে বসে আছে নীহারিকার সামনে হাতে এক গোছা ফুল। এই ফুলের তোড়া দার্জিলিংয়ে সস্তায় পাওয়া যায়না। ব্যাটা ভালোই প্রেমে পড়েছে। নীহারিকার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছে রেগে ভেতরটা একদম গরম হয়ে আছে। বোমা হলে এতক্ষনে ফেটে যেত। এটা ভাবতেই আমার কেমন হাসি পেল। আমার এই জায়গা না বুঝে হাসি কান্নার রোগটা কমাতে হবে।
– ওঠ ওঠ। প্লিজ সিন ক্রিয়েট করিসনা।
নীহারিকা না পেরে শেষে জোরে বলে উঠলো। শেরিং সেরকমই বসে রইলো। আজ উত্তর না শুনে মনে হয় উঠবেনা।
– শেরিং প্লিজ আই ডোন্ট লাভ ইউ।
এইবার আমি ভাবলাম শেরিং উঠবে। লোক দেখে নাকি শেরিং এর হাতে ঠান্ডা লাগছিলো কে জানে। শেরিং খপ করে নীহারিকার হাত ধরে ফেললো। এরপরের জন্য আমি তৈরি ছিলাম না। সঞ্জয় জিম করবেটের মত ঝাঁপিয়ে গিয়ে শেরিংয়ের মুখে এক বিরাশি সিক্কার চড় কসালো।
– অসহায় মেয়েদের গায়ে হাত দেওয়া।
সঞ্জয় হুংকার দিয়ে উঠলো। আর সেই আওয়াজ মিনিমাম কার্সিয়াং অব্দি পৌঁছেছে। আমি একটু তফাৎ গেলাম। বাঙালি ছেলে লোকাল ছেলের গায়ে হাত দিয়েছে। কেঁচাল হলে কমের উপর দিয়ে যাবেনা। অন্যের প্রেমের জন্য আমি মার খেতে রাজি না। কিন্তু যখন দেখলাম শেরিং আর ওর চামচা বিমল গুরুং এসে সঞ্জয়কে মাটিতে ফেললো আমার কি একটা যেন হয়ে গেলো। আমি ওদের মাঝে লাফ দিয়ে পিঠের ব্যাগ চোখ বুজে বাই বাই করে ঘোরাতে লাগলাম। যাই হোক চোখ খুলবোনা। কিছুক্ষন ঘুরিয়ে টের পেলাম কেমন যেন সব চুপচাপ। আমি থেমে চোখ খুললাম। দেখলাম সঞ্জয় পাশে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে আমাকে দেখছে। শেরিং বিমল কেউ নেই। কয়েকজন টুরিস্ট হাতে চায়ের কাপ নিয়ে আমাকে দেখছে।
– দার্জিলিং কখনো আমাকে হতাশ করেনা। প্রতি বার নতুন কিছু দেখি। এরকম ব্যাগ ঘোরাতে প্রথম কাউকে দেখলাম। দারুন দারুন।
একজন বাঙালী টুরিস্ট বলে উঠলেন। ওই টুরিস্টদের মধ্যে একজোড়া চোখ দেখলাম আমি দারচিনি রঙের। আর শুনলাম।
– বলদ কোথাকার।
আমি আর সঞ্জয় এই ঝামেলার পর কলেজ ঢোকার সাহস দেখালাম না। সব বার ব্যাগ বাইবাই করে ঘুরিয়ে কাজ হবেনা। আমাদের কলেজ থেকে বেরিয়ে একটু এগোলে হ্যাপি ভ্যালি টি এস্টেট। সেখানে কুইন টি স্টল পড়ে ঢোকার মুখে। আমি সঞ্জয় সেদিকে গেলাম। সঙ্গে আমরা সুরজকে ধরে এনেছি। লোকাল ছেলে সাথে থাকা ভালো। আমি দার্জিলিংয়ে থাকি তবু ঠিক লোকাল হয়ে উঠতে পারিনি। আমরা তিনজন সিগারেট ধরালাম। সুরজ চোখ বুজে সিগারেট খায়। ওর নাকি প্রকৃতিতে এই ধোঁয়া মিশছে দেখলে খারাপ লাগে। সুরজ বলে আগে দার্জিলিং আরো সবুজ ছিলো আর আকাশটা আরো নীল ছিলো। এখন আর নেই। এরকম কাব্য আমার আসেনা। তাছাড়া এরকম ভয় ভয় সময়ে তো নয়ই। আমি আর সঞ্জয় টি এস্টেটর দিকে তাকিয়ে সিগারেট টানছি আর সুরজ চোখ বুজে।
– থ্যাংকস ফোর টুডে।
আমরা দুজনেই চমকে পেছনে তাকালাম। নীহারিকা। এত দূর এসেছে সঞ্জয়কে থ্যাংকস বলতে? বাহ লক্ষণ তো সুবিধার সঞ্জয়ের জন্য। কিন্তু তক্ষুনি নীহারিকার চোখ মুখ পাল্টে গেল।
– তোমরা সিগারেট খেয়ে নেচারটা এই করছো?
বন্ধু যে প্রেমে পড়লে কি ভয়ানক জীব হয় আজ বুঝলাম। সঞ্জয় তখুনি কিছু না ভেবে আমাকে দেখিয়ে বলে উঠলো।
– আমি খাইনা তো। ওই জোর করে খাওয়ালো।
আমি অবাক হয়ে সঞ্জয়ের দিকে তাকালো। শালা ব্রুটাস।
– এনাক্ষী ঠিক বলে তোমাকে।
কথাটা শুনেই এই ঠাণ্ডাতেও যেন আমার মাথায় ভিসুভিয়াস জ্বলে উঠলো।
– তোমার বান্ধবীকে বলে দিও লোক না চিনে কথা না বলে। আমার একটা বছর নষ্ট করেছে তোমার বান্ধবী।
নীহারিকা একটু অবাক হয়ে তাকালো আমার দিকে। তারপর আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলো রিচমন্ড হিলের দিকে। সঞ্জয় আমাকে সরি ভাই বলে ঐদিকে দৌড় দিলো। দেখলাম দুজনে একটু কথা বলে একসাথে হাঁটা লাগালো। ভালোই। আমার ঘাড়ে রেখে বন্দুক চালানো। কি আর করি বন্ধু বলে কথা। আমি আর সুরজ এক কাপ করে চা নিলাম। একটু পর সূর্যটা টি এস্টেট এর পেছনে ডুবে যাবে।

ALSO READ  কলকাতা ক্যাফে

আমি তিনদিন কলেজ যাচ্ছিনা। পেট খারাপ বলে মটকা মেরে পড়ে আছি। কলেজ যাইনি শেরিংয়ের ভয়ে। আমাকে নাকি ব্যাগের মত বাই বাই করে ঘোরাবে।সুরজ ফোনে জানানোর পর আমি আর যাইনি কলেজে। কারন বাই বাই করে ঘোরালে খুব একটা ভালো লাগে বলে মনে হয়না। আজ সুরজ আর সঞ্জয় দেখা করতে এসেছিলো। সুরজ বলে কয়ে শেরিংকে থামিয়েছে। আর সঞ্জয় নীহারিকার প্রেম একটু একটু হচ্ছে নাকি। আর নীহারিকাকে পাওয়ার আশা নেই বুঝে শেরিং সাইড হয়েছেই কাজেই কলেজ এখন যাওয়ার জন্য সেফ।

আমি ক্লাস কাট মেরে ক্যান্টিনে বসে উত্তমদার চা খাচ্ছি একা। একা ক্যান্টিন আমার খুব ভালো লাগে।
– তুই নীহারিকাকে কি বলেছিস? আমি তোর লাইফ নষ্ট করেছি এক বছর?
আমার হাতের কাপ থেকে চা চলকে আমার সোয়েটারে পড়লো। গেল রে সাদা সোয়েটারটা। আজ মা বাড়ি গেলে মেরে ফেলবে। কিন্তু সেটা এই মুহূর্তে সমস্যা নয়। দেখলাম সামনে এনাক্ষী দাঁড়িয়ে। বুঝলাম হুজ্জতি হবেই আজ।
– আমি সেভাবে বলিনি ঠিক।
আমি ঢোক গিললাম।
– কিভাবে বলেছিস? কাঁধে মাথা রেখে?
আমি এনাক্ষীর গলাটা কেমন কেঁপে যেতে শুনলাম। আমি চাইনা ওই প্রসঙ্গ উঠুক। আমি কথা ঘোরালাম।
– ভালো আছিস?
গোটা ক্যান্টিনে কেমন উত্তাপ ছড়াচ্ছে। এইজন্য দার্জিলিংয়ে বরফ পড়েনা।
– না ভালো নেই।
এনাক্ষী বললো।
– ও আচ্ছা।
কি বলবো বুঝলাম না। এনাক্ষীর দারচিনি রঙের চোখটা কেমন টলটল করছে।
– সোয়েটার টা তো গেলো।
এনাক্ষী হাতে রুমাল নিলো। সাদা বরফের মত রুমাল। হাতটা এগিয়ে দিয়ে সোয়েটার দাগটা মুছে দিলো।
– ফেসবুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছি। একসেপ্ট করিস।
এনাক্ষী উঠে গেলো টেবিল থেকে। বলেছিলাম না দার্জিলিংয়ে একটা চার্ম আছে। এখানে বেশিদিন মন খারাপ করে থাকা যায়না। এখানে সব ভালো হয়।

◆◆◆◆◆◆শেষ◆◆◆◆◆◆

ALSO READ  একটি অশ্রুত কথোপকথন - Sinhaj Noor : 2nd Place Winner

More From Author

    None Found

What’s your Reaction?
+1
9
+1
+1
10
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x