Focus and win
Skip to toolbar

শুক্রবার জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে ৮৬বছর পর খুলছে বিশ্ব ঐতিহ্য তুরস্কের হায়া সোফিয়া মসজিদ

সুরাইয়া খাঁন নিশাত

তুরস্ক মধ্যযুগের রোম সাম্রাজ্যের সাবেক রাজধানী কনস্টানটিনোপল বর্তমান ইস্তাম্বুলে অবস্থিত হায়া সোফিয়া যা দেড় হাজার পূর্বে গির্জা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।এটি মূলত স্থাপন করা হয়েছিল অর্থোডক্স গির্জা হিসাবে।সম্রাট প্রথম জাস্টিনিয়ানের আদেশে এই হাইয়া সোফিয়া নির্মাণ শুরু হয়েছিল ৫৩২ খ্রীষ্টাব্দে। ।১২০৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি গির্জা হিসাবে ব্যবহার হত।

১২০৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১২৬১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত এটি ক্যাথলিক গির্জা হিসাবে ব্যবহার� করা হত।তারপর পুনরায় অর্থোডক্স গির্জায় রুপান্তরিতে করা হয়,যার মেয়াদকাল ছিল ১২৬১ খ্রিঃ থেকে ১৪৫৩খ্রিঃ পর্যন্ত।ওসমান বংশীয় ফতেহ সুলতান মুহাম্মদের ঐতিহাসিক সাবেক কনস্টানটিনোপল বর্তমান ইস্তাম্বুল বিজয়ের মাধ্যমে তুরস্ক মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়।ইস্তাম্বুল দখলের পর তিনি খ্রিস্টানদের থেকে জোর করে হায়া সোফিয়া দখল না করে অর্থের বিনিময়ে ক্রয় করেন।ইস্তাম্বুল এর মুসলিম বাহিনী ১মবারের মত ১৪৫৩সালের ১লা জুন গির্জার ভেতর জুম্মার নামাজ আদায় করে।
ওসমান বংশীয় শাসক হায়া সোফিয়াকে মসজিদে রূপান্তর করেন এবং নামকরণ করেন “ইম্পিরিয়াল মসজিদ” যা প্রায় ৫০০বছর মসজিদ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।বর্তমান তুরস্কের প্রধান মসজিদ যা “ব্লু মসজিদ” নামে পরিচিত, এটি স্থাপিফ হয় ১৬১৬সালে।কিন্তু এই ব্লু মসজিদ স্থাপনের পূর্ব থেকেই তুরস্কের প্রধান মসজিদ ছিল ইম্পিরিয়াল মসজিদ।।

১৯৩৫ সালে আধুনিক তুরস্কের স্থপতি ও স্বাধীন তুরস্কের প্রধান রাষ্ট্রপতি “মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক” ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইম্পিরিয়াল মসজিদ তথা হায়া সোফিয়াকে যাদুঘরে রূপান্তরিত করেন।তখন সামরিক বাহিনী দ্বারা এই যাদুঘর নিয়ন্ত্রিত হত।

১৯৮৫ সালে যাদুঘর থাকাকালে হায়া সুফিয়াকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকার অন্তর্ভুক্ত করে।তুরস্কের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে দেশি বিদেশি পর্যটকের জন্য অন্যতম স্থান ছিল হায়া সোফিয়া।

তুরস্কের ভেতরে এবং বাইরে বহু গোষ্ঠীর জন্য হাইয়া সোফিয়ার ১৫০০ বছরের ইতিহাস ব্যাপক ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে।

১৯৩৪ সালে করা এক আইনে এই ভবনটিতে ধর্মীয় প্রার্থনা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ALSO READ  রশিদ হারুনের শেষ কবিতা

কিন্তু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী এবং ধার্মিক মুসলমানরা দাবি করেন যে হাইয়া সোফিয়াকে আবার মসজিদে পরিণত করা হোক। তারা ওই আইনের বিরুদ্ধে ভবনটির বাইরে বিক্ষোভও করেছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের বক্তব্যে এই দাবির প্রতিধ্বনি শোনা গেছে। গত বছর স্থানীয় নির্বাচনের আগে এক প্রচার সভায় দেয়া বক্তৃতায় তিনি বলেন, হাইয়া সোফিয়াকে জাদুঘরে পরিণত করা ছিল এক “বিরাট ভুল।“

এর পর তিনি তার সহযোগীদের নির্দেশ দেন কিভাবে ভবনটিকে মসজিদে পরিণত করা যায় তা খতিয়ে দেখতে।

তুরুস্কের আদালতের রায়ের উপর ১০ জুলায় ২০২০সালে আবার নতুন করে মসজিদে রূপান্তর করা হয়।শুক্রবার জুম্মার নামাজের মধ্য দিয়ে ৮৬বছর পর মসজিদ হিসেবে খুলবে বিশ্ব ঐতিহ্য তুরস্কের হায়া সোফিয়া।এদিন জুম্মার নামাজে উপস্থিত থাকবেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান,ন্যাশোনালিস্ট মুভমেন্ট পার্টির নেতা ডেভলেত বাহচেলিসহ রাষ্ট্রীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তা।উদ্বোধনী নামাজে অংশ নিবেন দেড় হাজার মুসল্লী।

১৬জুলাই ২০২০ তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক অধিদফতর মসজিদে রূপান্তরিত হওয়ার পরে হায়া সোফিয়া পরিচালনার জন্য সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সহযোগীতা প্রটোকল স্বাক্ষর করেন।প্রটোকলের অধীনে সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় হায়া সোফিয়ার পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের কার্যাবলি তদারকি করবে এবং ধর্মীয় বিষয় তদারকি করবে ধর্ম বিষয়ক অধিদফতর। পূর্বে এই স্থাপনাটি দেখার জন্য টিকেট কেটে প্রবেশ করতে হত কিন্তু হায়া সোফিয়াকে পর্যটকদে জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা দেয়া হয়েছে।দেশি বিদেশি সকল পর্যটকদের জন্য মূল্যবান এ স্থাপনাটি উন্মুক্ত থাকবে।

More From Author

    None Found

What’s your Reaction?
+1
17
+1
+1
9
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x