Action gets results
Skip to toolbar

বিরুদ্ধ দাহনে

স্তব্ধ শহর আজ হেঁটে চলেছে অদ্ভুত বিষাদে
যেখানে বৃষ্টিভেজা দেয়াল লিখন রং হয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়ে।
মহাব্যস্ত রাজপথ আজ শিথিল বসনে পড়েছে ঢলে
স্থবির নগরীর কোলে।
ইটের দালানেও এখন ঝিমধরা নৈঃশব্দ
তাইতো ক্লান্ত শহর আজ অভিসারে যেতে চায়
ঝাউতলার ঝিরঝিরে বাতাসে।

ঝালমুড়ির গাড়ি থামিয়ে ফিরোজ মামার উদাস চোখ
কপালে বলিরেখা-সূক্ষ্ম কারুকাজ
টানটান চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে আজ

সবকিছু ছাপিয়ে প্রকট হয়ে ওঠে দুটো পাঁচটাকার জন্যে হাহাকার।

আর টেবিলের তলা দিয়ে পাঁচশো টাকার স্রোত মন্থর হয়ে গেছে বলে ইন্দ্রলুপ্ত বিশালবপু সরকারি কর্মচারীর বিষাক্ত দীর্ঘশ্বাস।

অধিকাংশই আজ অবসরে
ঘুম ভাঙে রোদ উঠে গেলে
প্রেয়সীর বাহুডোরে।
তবে পলিথিনের মানিব্যাগওয়ালাদের ছুটি নেই
কেননা, ক্ষুধা মহামারী চেনে না।
আহত শহরে রোজ জলপট্টি দেয় ওরা
।ওদের অক্লান্ত শুশ্রূষায় এ শহর আজও বেঁচে আছে।

তবে এদিন চিরদিন থাকবে না।
মহামারীর মৃত্যুক্ষুধা একদিন ঠিক ফুরিয়ে যাবে।
ছোট ছোট পায়ে স্কুলে যাবে শিশু
ফিরোজ মামার হাসি মাখা ঝালমুড়ি কিনে খাবে।
শেষ বিকেলের স্নিগ্ধ আলোয়
পাঞ্জাবী আর শাড়ির আবার দেখা হবে,
খসখসে আঙুল জড়িয়ে ধরবে মেহেদীরাঙা হাত।
মধ্যবিত্ত বাবা বাধ্য হয়ে ছেলেকে আবার কিনে দেবে
পনেরশো টাকা দামের ব্যাট।
ক্ষমতাসীনরা আবার জাঁকিয়ে বসবে ক্ষমতার গদিতে।
তবে আজ যাদের বিরাম নেই
তাদের সেদিনও থাকবে না।
টপটপিয়ে লোনা জলে একইভাবে লেখা হতে থাকবে
মহাজীবনের আলেখ্য।

তবে আমি সেদিন চুপ করে থাকবো না।
নজরুলের ‘মৃত্যুক্ষুধা’ ছিড়ে ছড়িয়ে দেবো শহরের
প্রতিটি রাস্তার প্রতিটি বাঁকে
বেরিয়ে আসবে আনসার
দলবল নিয়ে তার
আমরা মিছিল করবো পলিথিনের মানিব্যাগওয়ালাদের
অধিকার দাবিতে।
আমরা পৌরসভা নগর ভবন দখল করে নেবো,
মেথর বসবে মেয়র হয়ে!
অতঃপর পূর্বোক্ত ইন্দ্রলুপ্ত ভুড়িবাজদের চামড়া তুলে
নিয়ে নতুন ওয়ালেট গড়ে নেবো।
আর সব পলিথিন জড়ো করে
আগুন জ্বালবো আমি,রুদ্রগ্রাসী আগুন!
আমি পরিবেশবাদী নই,আমাকে ধিক্কার জানাও!
আর বিশুদ্ধবাদের তোড়ে ভুলে যেওনা,
আগুন শুধু খাঁটিই করে না
পোড়ায়ও বটে!

ALSO READ  পোড়া বসন্ত

More From Author

    None Found

What’s your Reaction?
+1
16
+1
+1
3
+1
+1
+1
+1
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x